প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ

digitalsomoy

বরিশালের টুংগীবাড়িয়ায় 'আত্মঘাতী ড্রেজার' বসিয়ে অবৈধভাবে ভাঙ্গন এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে ধসে যাচ্ছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা এবং হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। ড্রেজার মালিক টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের চাষী পতাং গ্রামের আসলাম ব্যাপারী বহুদিন ধরে চালিয়ে আসছে এ অবৈধ কারবারটি।

এসব ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত বালুর বেশিরভাগই স্থানীয় ঠিকাদাররা তাদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে। সড়ক ও সরকারি স্থাপনার মেঝে ভরাট করা হচ্ছে এ বালু দিয়ে। ভূগর্ভস্থ এ বালুতে কাদামাটির পরিমাণ বেশি থাকে ফলে, মাটি মিশ্রিত এ বালু দিয়ে তৈরি সড়ক ও স্থাপনা টেকসই না হওয়ায় প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। তাছাড়া কম খরচে এবং সহজ পদ্ধতিতে বালু পাওয়ায় ঠিকাদারদের পাশাপাশি বসতবাড়ি নির্মাণেও অনেকে পরিবেশ বিধ্বংসী এই ড্রেজার ব্যবহার করছে।

নদী ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অনেকটা প্রতিমন্ত্রীকে বোকা বানিয়ে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে রাতের আধারে নদী থেকে বালি উত্তলন করে আসছে  আসলাম ব্যাপারী।

ইতোমধ্যে ভাঙ্গন এলাকায় ৩০ কোটি টাকা ব্যায়ের একটি ভেরীবাধ প্রকল্প পাস হয়েছে। একদিকে রাতের আধারে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তন করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙ্গন এলাকায় আবার ভেরীবাধ প্রকল্প পাস হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এভাবে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে। এর আগেরও আসলাম ব্যাপারীর ড্রেজার মেশিন এই অবৈধ কাজের জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো।

এ বিষয় ড্রেজার মালিক আসলাম ব্যাপারীর মোবাইলে একাধিক কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।