এবছর ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশের জাতীয় পর্ব অফলাইনে

digitalsomoy

দেশে প্রথমবারের মতো অফলাইনে আয়োজিত হতে চলেছে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ পর্ব।  ২০১৮ ও ২০১৯ সালে "ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াড" এ বাংলাদেশের ক্ষুদে রোবটবিদরা অসামান্য সাফল্য অর্জন করে। তারই  ধারাবাহিকতায় রোবট কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগ গ্রহন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, ২০১৯ সালের শেষে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও সমস্যার সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রোবটিক্স প্রতিযোগিতা "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড" এর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে বিডিওএসএন। 

 ২০২০ সালের ৬ই জানুয়ারি “ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড” ও “বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)”-এর মধ্য এক চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের সদস্য পদ লাভ করে। বাংলাদেশ ডাব্লিউআরও-এর এশিয়ার ২৫তম এবং বিশ্বব্যাপী সদস্যদের মধ্যে ৮৪তম সদস্য। “ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড”-এর জাতীয় আয়োজক হিসাবে “বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক” প্রতি বছর বাংলাদেশে "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশ"-এর জাতীয় পর্ব আয়োজন করে। তবে এবছর আয়োজনটি হতে চলেছে এক ভিন্ন মাত্রায়, বাংলাদেশ এবারই প্রথম বারের মত অফলাইনে আয়োজিত হবে এই অলিম্পিয়াড। 

এ আয়োজনের বিস্তারিত কর্মসূচী জানাতে আজ সকালে ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান,কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জনাব মমলুক ছাবির আহমদ, ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশ ২০২২"-এর আহ্বায়ক রেদওয়ান ফেরদৌস, বিডিওএসএনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, ডাব্লিউআরও বিডির সমন্বয়ক মাহেরুল আজম কোরেশী, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মনির হোসেন সহ আরো অনেকেই এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বলেন, “সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে অন্যভাবে পরিচয় করিয়ে  দিবে এই অলিম্পিয়াড। ” ডাব্লিউআরও বিডির উপদেস্টা জনাব মমলুক ছাবির আহমদ সবার উদ্দেশ্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটা নতুন আনন্দের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছে রোবটিক্স।  রোবট এখন শুধু ইন্ডাস্ট্রির বিষয় নয়, শিক্ষার উপকরণও।  আগামীতে সারা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে আজকের দিনের এই রোবট বিজ্ঞানীরা। ” 
   
জাতীয় এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মনির হোসেন উপস্থিতিদের উদ্দ্যেশে বলেন, “ক্রিয়েটিভ আইটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার সাথে ক্রিয়েটিভ আইটি সব সময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ”

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড সদস্যপদ লাভের পর, ২০২০ সালের ১২-১৫ই নভেম্বর কানাডার মনট্রিয়ালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল করা হয়, এর পরিবর্তে কানাডা "ডাব্লিউআরও ২০২০-এক্স" নামে একটি অনানুষ্ঠানিক অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। "ডাব্লিউআরও ২০২০-এক্স" এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খুদে রোবটবিদ মীর উমাইয়া হক পদ্ম ও ইভা নেওয়াজ অংশগ্রহণ করেন।

২০২১ সালে “ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড” অনুষ্ঠিত হয় "PowerBots - The Future of Energy" থিমকে কেন্দ্র করে। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরের প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। “রেগুলার”, “ওপেন”, “ডব্লিউআরও ফুটবল” এবং “ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স” এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডাব্লিউআরও।  ২০২১ সালের এই প্রতিযোগিতায় “ওপেন ক্যাটাগরি” ও “ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স” ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশ ২০২১" এর জাতীয় পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে দুটি দল এবছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। "ডাব্লিউআরও ২০২১" এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পতাকা শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খুদে রোবটবিদ নুসাইবা তাজরিন তানিশা, রুদাইবা তারান্নুম ও নামির আহসান অংশগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেই “ওপেন ক্যাটাগরি” সিনিয়রে “টিম পাওয়ারিয়াম” বিশ্ব রাঙ্কিং ১৬তম এবং “ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স” ক্যাটাগরিতে “টিম প্রোডিজি” ১০ম স্থান অর্জন করে।

উল্লেখ্য, ডাব্লিউআরও এর সদস্য পদ লাভের পর থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বাংলাদেশে "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড"-এর জাতীয় পর্ব আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক।  তবে এবছর আয়োজনটি হতে চলেছে এক ভিন্ন মাত্রায়, এবারই প্রথমবারের মত অফলাইনে আয়োজিত হবে এই অলিম্পিয়াড। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও একটি নির্দিষ্ট থিমকে কেন্দ্র করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ তারিখ, শনিবার, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন ব্যাপী ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশের জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।  

এবছর অলিম্পিয়াডের থিম "My Robot My Friend"।  এর আগে গত ২রা সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন চলাকালে ২০২২ অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দুইটি ক্যাটাগরিতে ৩২ টি দলে মোট ৭৮ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেন।  যার মধ্যে ৬ টি দল “ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স” ক্যাটাগরিতে এবং ২৬ টি দল “ফিউচার ইনোভেটর্স” ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করবে। "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশ ২০২২" এর জাতীয় পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে দুটি দল জার্মানির ডর্টমুন্ড শহরে অনুষ্ঠাতব্য "ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড ২০২২” এর আন্তর্জাতিক পর্বে অংশগ্রহণ করবে।

"ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড" বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রোবটিক্স কম্পিটিশন। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৪ শুরু হওয়া এই রোবটিক্স কম্পিটিশনে বিশ্বের ৮৫টির বেশি দেশ অংশগ্রহণ করে। ডব্লিউআরও এর তথ্য মতে কোভিড পূর্ববর্তী সর্বশেষ অফলাইনে অলিম্পিয়াড, শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই অংশগ্রহণ করে ৭৫ টির বেশি দেশ। জাতীয় পর্যায়ের বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজারেরও বেশি। ২৮ হাজারেরও বেশি দল ইতিমধ্যেই এই কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফাইনালে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ২৭৫০ এরও বেশি। ৩৫ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক এই আয়োজনটিকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন। অধিকন্তু, ২০০৪ সাল থেকে আয়োজন হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ফাইনালগুলোতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ থেকে বিচারকগণ বিচারকার্যে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশের জাতীয় পর্বের পৃষ্ঠপোষক “ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট”।  আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক।  এছাড়াও এ আয়োজনে সহযোগী হিসেব থাকছে "প্রথম আলো" ও “জেআরসি বোর্ড”।  এবং এবছরের আয়োজনটির নামকরণ করা হয়েছে "ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট প্রেজেন্টস ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড-বাংলাদেশ ২০২২"।