বিল গেটস-মেলিন্ডার বিচ্ছেদের কারণ কী জেফরি অ্যাপস্টেইন?

digitalsomoy

দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও মেলিন্ডা দম্পতি। গত সপ্তাহে তারা এ ঘোষণা দিলেও, তাদের সম্পর্কে ফাটল শুরু হয় মূলত দুই বছরে আগে থেকে।

বিল গেটস ও মেলিন্ডার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন মেলিন্ডা। তিনি বলেছিলেন, তাদের বিয়েটা ‘অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে’ গিয়েছিল।

গত ৩ মে এক যৌথ টুইটার বার্তায় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন কোটিপতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা। তারা বলেন, আমরা আর একসঙ্গে পথ চলতে পারবো বলে আমাদের মনে হয় না। নিজেদের সম্পর্কের ওপর অনেক নিরীক্ষা ও চিন্তা-ভাবনার পর আমরা আমাদের সংসারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বিচ্ছেদের স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি এই দম্পতি, তবে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সাবেক কর্মকর্তা ও বেশ কয়েকজনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মেলিন্ডার উদ্বেগের কারণ হলো, দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফরি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ ছিল। ২০১৩ সাল থেকে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন মেলিন্ডা।

নথিতে দেখা গেছে, এই দম্পতি করোনা মহামারির মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের বয়স ১৮ বছর বলে বিবাহ বিচ্ছেদের নথিতে দেখা গেছে। তাদের সবচেয়ে ছোট সন্তান স্কুলে পড়ে।

জেফরি অ্যাপস্টেইনের বিরুদ্ধে শিশু ও কিশোর পাচারের অভিযোগ রয়েছে। শিশু-কিশোরদের নাকি যৌন দাস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এমনকি তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের আগস্টে কারাগারেই মারা যান জেফরি অ্যাপস্টেইন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানা গিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের সম্পর্কের সূত্র মূলত কী, গোপনে আলাপের পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে; তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন মিলিন্ডা। দুবছর আগে কারাবন্দী অবস্থায় অ্যাপস্টেইনের মৃত্যুর পর বিল গেটসের সঙ্গে বিচ্ছেদের উপায় খুঁজতে থাকেন মিলিন্ডা। এ নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে পরামর্শও নেন তিনি। সম্ভাব্য বিচ্ছেদে আইনী সহায়তার জন্য ২০১৯ সালে তিনি কয়েক জন নামকরা আইনজীবীকে নিযুক্ত করেন।

নথি পর্যালোচনা করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেন মেলিন্ডা ও তার আইনজীবী। এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসকে দেখা গেছে। এমনিক, বিল গেটস একবার অ্যাপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন।

২০১৯ সালে বিলের মুখপাত্র ব্রিজজিট আর্নল্ড বলেন, মানবপ্রেম নিয়ে আলোচনার জন্য বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন বিল গেটস ও অ্যাপস্টেইন। তবে এ নিয়ে অনুতপ্ত তিনি। এটা তার ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন বিল গেটস।

এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তাহ খানেক আগে তারা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তখন থেকেই গণমাধ্যমে এর পেছনে রহস্যময় ঘটনাকে ইঙ্গিত করা হয়। বিচ্ছেদের পর সামাজিক মাধ্যমে মিলিন্ডা নিজের নামের সঙ্গে বংশীয় নাম ‘ফ্রেঞ্চ’ যুক্ত করেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের ব্যবসায়িক বোঝাপড়ার কারণে অস্বস্তি ছিল মিলিন্ডার। তিনি ধারণা করেছেন, ২০১৩ সাল থেকেই অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বিল গেটসের। অ্যাপস্টেইন সেক্স ট্রাফিকের অপরাধে বিচারাধীন ছিলেন।

এদিকে, অ্যাপস্টেইনে ইস্যুতে গণমাধ্যমের খবরের প্রক্ষিতে মুখ খুলেছেন বিল গেটস। মুখপাত্রের মাধ্যমে তিনি বলেন, অ্যাপস্টেইনে সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তবে তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক বোঝাপড়া ছিল না, এমনকি বন্ধুত্বও ছিল না।

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে বিল গেটসের মাইক্রোসফট কোম্পানিতে যোগ দেন মেলিন্ডার। পরিচয়ের পর তারা প্রণয়ে জড়ান। সেই প্রণয় ১৯৯৪ সালে গড়ায় পরিণয়ে।

এই দম্পতি ২০০০ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গঠন করেন। নিজেদের বেশিরভাগ সম্পত্তিই এই সংস্থায় বিনিয়োগ করেন তারা। ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্র্য, রোগ-ব্যাধি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হলেন বিল গেটস। তার সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ডলার। এই দম্পতির বিচ্ছেদের খবরে অনেকেই হতবাক হয়ে গেছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে কখনও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি। এই দম্পতিকে বিভিন্ন সময় হাসি-খুশিই দেখা গেছে।