ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের সুরাট বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হীরা কাটাই ও পালিশের কেন্দ্র। এখানে হাজার হাজার কারখানা, লাখ লাখ শ্রমিক এবং কোটি কোটি ডলারের রপ্তানি বাজার নির্ভর করে বিদেশি চাহিদার উপর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন শুল্কনীতির জেরে এই শহরের ব্যবসায়ীদের মুখে এখন চিন্তার ছাপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের রত্ন ও গয়না আমদানির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ২৫ শতাংশ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক। এর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং বাজারের অনিশ্চয়তায় সুরাটের ব্যবসা চাপে ছিল। বড়দিনের মৌসুম, যা সারা বছরের আয়ের প্রায় অর্ধেক এনে দেয়, সেখানকার অগ্রিম বরাত একের পর এক বাতিল হচ্ছে।
রত্ন ও গয়না রফতানি প্রচার কাউন্সিল (জিজেইপিসি) জানাচ্ছে, আমেরিকা ভারতের তৈরি হিরের সবচেয়ে বড় বাজার—২০২৪ সালে আমেরিকার মোট হীরা আমদানির ৬৮ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। কিন্তু নতুন শুল্কের ফলে ভারতের বাজারের অংশীদারিত্ব কমে যেতে পারে, যার ফায়দা তুলতে পারে বেলজিয়াম সহ কয়েকটি দেশ।
সুরাটের হিতেশ পটেল, যার কোম্পানির বার্ষিক আয় প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা, বলছেন—গত কয়েক বছরে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমেছে, উৎপাদনও ৩০-৩৫ শতাংশে নেমে গেছে। এখন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আশঙ্কা হলো কর্মসংস্থান হারানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে অন্তত ১ লাখ২৫ হাজার হীরা শিল্পের শ্রমিক আগামী কয়েক মাসে চাকরি হারাতে পারেন। এই ধাক্কা শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই নয়, সমগ্র ভারতীয় অর্থনীতিতে তরঙ্গ তুলতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে পরীক্ষা দিতে চলেছে? ট্রাম্পের এই নীতি কি সত্যিই বন্ধুত্ব রক্ষা করছে, নাকি ভারতীয় অর্থনীতিকে এক কঠিন মোড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

